পিতা - Father
পিতা
এক শিল্পপতি বাবার একমাত্র ছেলে তার বার্থডে সেলিব্রেট করতে বাবার কাছে
২ লক্ষ টাকা দাবি করলো।
এর মধ্যে মা চলে এসে বলল আমাদের একমাত্র ছেলে এই সম্পদ সব কিছুইতো একদিন ওর হবে।
দিয়ে দাও, ওর মনে কষ্ট দিওনা।
বাবা বললেন যদি আমার ছেলেকে একটা উড়ন্ত বিমানের পাইলটের সিটে বসিয়ে তোমার ছেলের উপর প্লেনের দ্বায়িত্ব দিয়ে নেমে পরি। তখন কেমন হবে তুমিই বল?
মধ্যবিত্ত থেকে শিল্পপতি হয়ে ওঠা স্বামীকে বুঝেন বলেই মহিলা আর কোন আর্গুমেন্ট করলেন না।
বাবা এবার বললেন,
ঠিক আছে আমি তোমার ছেলেকে ২ লক্ষ টাকা দিব যদি সে আগামীকাল আমাকে পরিশ্রম করে ২০০ টাকা উপার্জন করে এনে দিতে পারে।
সারা রাত নাক ডেকে ঘুমিয়েছে ছেলে; মাত্র ২০০ টাকা লুল, বাবা আগামী কালই দেখতে পারবে ছেলে তার সম্পদের দায়িত্ব নেয়ার মতো যোগ্য হয়েছে।
পরের দিন সকাল ৭ টায় বাবা ছেলেকে ডেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিল।
রাজ্যের বিরক্তি ছেলের চোখে; মাত্র ২০০ টাকার জন্য এতো সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে??
রেডি হয়ে একে বারে ফুল বাবু সেজে ২০০ টাকা উপার্জন করতে বের হয়ে গেল ছেলেটি।
পকেটে এক টাকাও নাই সাথে বাবা একজন স্পাইও দিয়েছে। ঘর থেকে বের হওয়ার পর এখন মনে হচ্ছে একটা সমুদ্রের মাঝে পরে গেল।
বিনা পুঁজিতে টাকা কোথায় পাই। কারো কাছে থেকে ধার করতে পারছে না, কারো সাহায্য নিতে পারছেনা। ভিক্ষাও করতে পারবে না। পরিশ্রম করে উপার্জন করতে হবে।
ভাবতে ভাবতে দুপুর হয়ে গেল।
সামনে একটা রিক্সার গ্যারেজ; ঢুকে পড়লো সেখানে কিন্তু অপরিচিত মানুষকে তারা রিক্সা দিবেনা।
হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি এলো রিক্সা না পেয়েছিতো কি হয়েছে রিক্সা ঠেলতেতো পারবো।
তখন উচুঁ উচুঁ ব্রিজগুলোকে পেছন থেকে একজনকে রিক্সাওয়ালার সাথে ঠেলে উঠিয়ে দিতো হতো। বিনিময়ে যাত্রীরা ১ টাকা করে দিতো।
নন্দদুলাল নাদুশনুদুশ জীবনে কোন কাজ করেনি, এক গ্লাস পানিও নিজে ঢেলে খায়নি। আর আজ তপ্ত রোদে রিক্সা ঠেলছে,
এই ভাবে ১ ঘন্টায় ১০ টা রিক্সা ঠেলে ১০ টাকা উপার্জন করলো, ১১ নাম্বার রিক্সা ঠেলতে গিয়ে পরে হাঁটু ছিলে গেল।
আবার উঠে দাড়াতে যাত্রী হাতে ১ টাকার একটা কয়েন দিতে চোখ দিয়ে কেন যেন কান্না চলে আসলো।
ঘন্টা খানেক পর হাঠুর ব্যথা আরো তিব্র হতে লাগলো।
সন্ধ্যা পর্যন্ত গুনে দেখলো মাত্র ৪০ টাকা হয়েছে।
প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে মনে হচ্ছে শরীরও যেন নিজের সাথে প্রতারণা করছে।
অবশেষে ৪০ টাকা নিয়েই বাড়ি ফিরে গেল। বাবার সামনে গিয়ে ৪০ টা টাকা বাবার হাতে দিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো, আমি পারিনি বাবা।
ছেলের বিধ্বস্ত ক্লান্ত চেহারা, হাঠুর কাছে ছেঁড়া পেন্ট দেখে বাবা একটা গা জ্বলা হাসি দিলো। ছেলের কাধে হাত রেখে বললো এখন আমার সাথে ধানমন্ডি থেকে হেঁটে বুড়িগঙ্গা সেতুর কাছে যাবে, কোন প্রশ্ন না।
চার চারটে গাড়ি আর দুজন রেগুলার ড্রাইভার থাকতে হেটে কেন?
ছেলের জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে বাবা বললেন বাবা আমিতো আজকের এই পজিশনে এই ভাবে একটু একটু করেই এগিয়ে এসেছি। গাড়ি বা বিমানের গতিতে আসিনি। তুমিতো মাত্র একদিন কষ্ট করছো। একটু ধৈর্য ধর।
ক্লান্ত ছেলের হাত ধরে হাটতে হাটতে রাত তিনটায় ব্রিজে পৌঁছনো পিতা-পুত্র।
শান্ত নদী, ব্রিজের রেলিং ধরে দাড়িয়ে বাবা বললো,
তুমি আমার হাতে ৪০ টাকা দিয়েছে তাই না!!
জ্বি বাবা, আমার জীবনের প্রথম উপার্জন।
আমি জানি এই টাকা গুলো উপার্জন করতে তোমার অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন তোমাকে যা বলি শোন। আমি জানি আমার ছেলে ছোট বেলা থেকেই ম্যাথমেটিক্সে খুবই ভাল। তাহলে ভাল গুনতেও পারো আশা করি। এখন আমি তোমার উপার্জনের ৪০ টাকা দূরে পানিতে ছুড়ে ফেলবো আর তুমি বলতে থাকবে বাকি কয়টা রইলো।
বাবার কথা শুনে ছেলের চোঁখে আবার জল চলে আসলো।
বাবা তার সমস্ত শক্তি দিয়ে একটা কয়েন সেতু থেকে দূরে পানিতে ছুড়ে ফেলে বললো, এখন কয়টা রইলো।
ছেলে তার এতো কষ্টের পয়ষা নদীর পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে কাঁদলে কাঁদতে বললো, বাবা ৩৯ টা। এই ভাবে এক এক করে জীবনের প্রথম উপার্জিত এতো কষ্টের সব গুলো টাকা পানিতে ফেলতে লাগলো আর ছেলে গুনে চলল, আটত্রিশ, সাইত্রিশ, ছত্রিশ।
এমন একটি পরিস্থিতিতে ছেলে নির্বাক।
শেষের টাকাটা বাবা ফেললোনা।
পয়সা ফেলা বন্ধ করে ছেলেকে বললো, তোমার উপার্জনের ৪০ টাকা আজকে আমি নষ্ট করতে তুমি কাঁদলে আর আমার কতো টাকা তুমি এইভাবে নষ্ট করেছো তার হিসেব আছে তোমার কাছে? কোথায় আমিতো একবারও কাঁদিনি।
আজ তোমার অনুভুতিতে যেমন কষ্ট লেগেছে আমারও ঠিক তেমনি অনুভূতি আছে কষ্ট উপলব্ধি করার জন্য।
তোমার শেষের টাকাটা আমি রেখে দিলাম, এটা আমার সন্তানের প্রথম উপার্জিত টাকা, এটা এক জন পিতার জন্য গর্বের একটা প্রাপ্তি, এটা স্মৃতি হিসেবে আমি মৃত্যু পর্যন্ত সাথে রাখবো।
তুমি কাল তোমার মায়ের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে নিও।
বাবার এই কথা গুলো শুনে ছেলে বাবাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করতে করতে বললো বাবা আমার টাকা লাগবে না।
আমি এতো দিন স্কুলে কলেজে কিছুই শিখিনি, যেটা তুমি আজকে শিখালে, তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা।
একজন আদর্শ বাবার চাইতে বড় শিক্ষক কেউ হতে পারেনা। একজন আদর্শ পিতাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।
বাবা হেসে বললেন, কেন লাগবে না? কাল তুমি তোমার মায়ের কাছ থেকে টাকা নেবে এবং আমি আশা করবো তুমি তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ জন্মদিন পালন করবে।
পরদিন থেকে ছেলেটির নতুন সকাল, নতুন জীবন পেল।
ধন্যবাদ সকলের।
সংগ্রহিত


No comments